মোকসেদুল ইসলাম

moksedul




জ্যামিতিক গুণাবলী

পরিত্যাক্ত নগরীতে এখন আমাদের বাস
প্রাচীন পাহাড়ের গুহায় রেখে এসেছি পান্ডুলিপি জীবন
চন্দ্রভ্রমণের দীর্ঘ বিরতিতে ভেসে গেছে সব আয়ুষ্কাল
নিজেকে আড়াল করার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
তোমাদের শরীরের শামুক চিহ্নই বলে দেয় চলার গতি
প্রথাগত সৌন্দর্যে বিশ্বাস নেই বলে
সমুদ্রে গিয়ে তালাশ করি মৎসকন্যার রূপ।

এ আমার স্বেচ্ছা নির্বাসন নয়,
ক্লান্তির ইতিহাসে লিখে যাই জীয়নকাঠি সুখ
আলোর কর্তৃত্ত্ব যারা মেনে নিতে পারে নি
আসলে তাদের জ্যামিতিক দক্ষতা নেই।




অভিমানী গল্পের অপেক্ষা

মাতাল হলে যেহেতু আমাদের পাগল হতে হয়
সেহেতু নিজেকে গৌতম বুদ্ধ ভেবে নিয়ে অহিংসার ছবক দিতে থাকি
কিছু মানুষের অভিমানী গল্প পাথরের নিচে চাপা পড়ে
রাতের আঁধারকে বেশ্যা বানিয়ে নিজে বাদশাহ হয়ে বসে থাকে কেউ
শহরের বৈরি হাওয়ায় বেঁচে থাকতে হলে আমাদের প্রয়োজন হয় কিছু ছায়াচিত্রের
গণিতে কাঁচা বলে বৃত্ত রেখার বাইরে যেতে পারি নি কোনদিন
হিসাব কষে রাখি ক্যালেন্ডারের পাতায় চন্দ্রাভিযানে বেড়িয়ে পড়বো কবে?
এখানে মানুষ নেই বেশুমার যৌনতায় ভেসে যায় সাহেব বিবি গোলাম
শরীর জুড়ে ক্ষুধার স্রোত বয়ে গেলে মানুষের শুদ্ধতা বাড়েনা
আমি অপেক্ষায় আছি আসমানের গুহায়
নূহের প্লাবন থেকে নিজেকে বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ে যাবো।



মুখোমুখি

মধ্যরাতে চোখ মেলে দেখি
আমি আর ঈশ্বর বসে মুখোমুখি
কথা নেই কারো মুখে, নীরব পৃথিবী
চোখ মেলে শুধুই দেখাদেখি।
হয়তো ভাবিছে ঈশ্বর,
কি করবো বান্দা তোমায় নিয়ে
সারাটা জীবন ব্যয় করেছো মিছে।
আর আমি পাপী, বসে ভাবি
আরও কিছুদিন থাকতে দাও ধরাধামে।



অপমৃত্যু

একটি চিৎকার
বাঁচার আকুতি
অতঃপর পুলিশের খাতায়
লেখা হলো অপমৃত্যু।



চোখ

এ আমার দুঃসাহস কিনা জানি না
তোমাকে দেখলে তোমাতেই বিলীন হতে ইচ্ছে করে
চোখের দিকে তাকালে আর আয়নার প্রয়োজন হয় না
ও চোখে দেখি সাগর নদী সুখের ভেলা
একলা দুপুর সন্ধ্যার বীণা রাতের তারা।

দোহাই তোমার আমাকে নির্লজ্জ ভেবো না
শুধু দেখতে দাও
         দেখতে দাও
অপরূপ নয়ন দুটি
নারী তোমার চোখ দুটো যেন হরিণের মৃগনাভি।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ