মোহাম্মদ আন্ওয়ারুল কবীর




















মেয়েটির বয়স তখন কতোই বা হবে! ছয় কিংবা সাত। অসম্ভব ভালোবাসতো পাপাকে। সুযোগ পেলেই পাপার বুককে বিছানা বানিয়ে ঘুমিয়ে পড়তো। পাপারও সর্বস্ব ছিলো মেয়েটি।

বেশ কিছুদিন হলো পাপাকে খুঁজে পায় না মেয়েটি। এ ঘর সে ঘর করে। মা গোপন করেন নোনাজল। একদিন মেয়েটি জিদ ধরে, 'পাপাকে এনে দাও মা!' মা প্রমাদ গোনেন। মেয়েকে কোলে নিয়ে বেলকনিতে আসেন। সেদিন ছিলো জোৎস্নাস্নাত রাত। তিনি বলেন, 'মামণি, শুনো তোমার পাপা তো তারা হয়ে তারাদের দেশে চলে গেছে । ঐ যে আকাশে দ্যাখো কতো তারা ... এই তারাদের মাঝেই উনি আছেন। একবার যে তারাদের দেশে যায় সে তো আর ফিরে আসে না...' মেয়েটি আকাশে চোখ মেলে সবচে উজ্জ্বল তারায় চোখ ফেলে, সেখানে কি সে পেয়ে গেল পাপা-র মুখের আদল! করুণস্বরে বলে উঠে, 'পাপা, আই মিস ইউ পাপা...'

সৌরনিয়মে সময় হাঁটতে থাকে। মেয়েটি শিশু থেকে বালিকা, বালিকা থেকে কিশোরী, কিশোরী থেকে যুবতি হতে শুরু করে। পাপার জন্য এখনো সে মন খারাপ করে। বেলকনিতে জ্যোৎস্নার আলো পড়লে দৌঁড়ে রুম থেকে বের হয় সে। আকাশে তাকিয়ে খুঁজে সবচে উজ্জ্বল তারা, সে দ্যাখতে পায় পাপার মুখ।

মেয়েটি এখন ইউনিভার্সিটির ছাত্রী। পাপার মতোনই মেধাবী সে। একদিন লাইব্রেরিতে বসে পড়ছে সে। টেবিলের উল্টোদিকে বসে আছে একটি ছেলে। উজ্জ্বল একজোড়া চোখ। মেয়েটির চোখ পড়ে ছেলেটির উপর। ছেলেটিও দ্যাখতে শুরু করে মেয়েটিকে। আড়চোখে দুজন দুজনকে দ্যাখে। মেয়েটি দেখে আকাশের উজ্জ্বলতম তারা ...ভেসে আসে পাপার মুখ। আনন্দে মেয়েটির চোখ চিক চিক করে উঠে।


পরিচিতি






একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ