
আনাগত ভবিষ্যৎ ধুলোয় মাখামাখি
বদ্ধ তালায় মাথাকুটে খাচ্ছ গড়াগড়ি
আহ! মরি! মরি! নিষ্ক্রিয় একগুচ্ছ চাবি
মনের হাপরে সব কিছু বিষণ্ণতায় একাকার
‘সিম সিম খোল যা’যাদুকরী ফ্যান্টাসিতে
খুলছে না আর নীলভোমরার লৌহ সিন্দুক!
এভাবেই কি অনিশ্চয়তার কারাগারে বন্দী রবে
বিবর্ণ জীবনের একমাত্র উত্তরাধিকার!
বাণীবদ্ধ কথামালা আর চির চেনা দেয়াল
নিষ্কণ্টক জীবনকে অযথাই করেছে পথভ্রষ্ট।
বাড়ানো হাত উপেক্ষায় নিরুদ্দেশ হল প্রেম
ডাক টিকিট বিহীন বিয়ারিং চিঠির মত
রাজপথ, গলি, কানাগলিতে নোঙ্গর নিষিদ্ধ।
সব যায়! অলস দুপুর! লোভাতুর চোখ!
আরেকটি শিশুরাতের আগমনী ঘণ্টা বাজিয়ে
একটি বৃদ্ধ রাত দিনব্যাপী সূর্যালোক দেয় পাড়ি।
কি বিচিত্র! সূর্যের মত সর্বত্র হাসি হাসি মুখ
কারও গভীরে নেই সুখ! তবুও কুড়ায় উল্লাস
ভাস্কর্যের পাথর চোখে আনন্দের ছটা!
নাকি দণ্ডায়মান ক্লান্তিতে বিদ্রূপের হাসি
অপরাহ্নের আগেই ধুসর সব প্রান্তর
আনাগত ভবিষ্যৎ ধুলোয় মাখামাখি।
প্রথম সাহসের সফল সমাপ্তি
আকাশের রঙ যাই থাকুক
শঙ্খ চিলের তীক্ষ্ণ চোখ
যতই করুক খোঁজাখুঁজি
কটু স্বাদ, উষ্ণ ছোঁয়া, লজ্জার কাঁপুনি
প্রথম সাহসের সফল সমাপ্তি
চিলেকোঠার নির্জনতায় আজও বন্দি ।
উৎসুক ভালবাসার পাগলামিতে
স্বেচ্ছায় খোয়ালে আগলে রাখা সব
সেদিনের আনন্দাশ্রু আজও চোখে
প্রথম চুম্বন! এখন রোমন্থন
এ সুখময় স্মৃতি শুধুই কিংবদন্তি।
ভেবে দেখ, মূর্খতাই ছিল ভালো
শিহরনে ছিল নিষিদ্ধ সংকেত
এখন সব বুঝি, বুঝি না শুধু
কখন আমি দৃশ্যপটে অনভিপ্রেত।
এক জীবনের অপেক্ষা
সময়ের গণ্ডিতে দু:সময়ের অনুপ্রবেশ
উভয়ের ছুটার গতি সমানে সমান
তাই ব্যবধান সমান্তরাল।
প্রাপ্ত আঘাতের ক্ষত স্নায়ুর ভিতর
নাড়ির গতিকে করে বেসামাল
উঠানামায় ক্লান্ত প্রবহমান রক্তচাপ।
ধ্বংসস্তূপের উপর দণ্ডায়মান ছায়ামূর্তি
বিনা নোটিশে চোখ চড়কগাছ
ফুটন্ত পুকুর থেকে উপচে পড়ে জলকণা
রংহীন অতীতের উত্তরাধিকার।
মনখারাপের আয়োজনে মলিন প্রচ্ছদ
ব্যর্থতার বিকিরণে অনুভবের মোম
চুম্বকের মত কাছে টানে ঘুমন্ত শরীর।
প্রস্থানের পথে মরূদ্যানের কণ্টক-গুল্ম
লূ-হাওয়ার ঝাপটায় শুষ্ক সব অঙ্গ
মেঘে ভীর তবু অনাবৃষ্টি, চলে অনাসৃষ্টি
গোপনে বহমান দীর্ঘশ্বাসের চোরা স্রোত
শুধু একটি কাল বৈশাখী ঝড়ের জন্য
এক জীবনের অপেক্ষা ।
ঢাকা ।
এ বি এম সোহেল রশিদ
Reviewed by Pd
on
নভেম্বর ৩০, ২০১২
Rating:
Reviewed by Pd
on
নভেম্বর ৩০, ২০১২
Rating:
কোন মন্তব্য নেই:
সুচিন্তিত মতামত দিন