
অন্তরাত্মায় ।
কিছু আগেই থেমে যাওয়া বৃষ্টি । ডালে ডালে এলিয়ে যাওয়া
কার্তিকের শেষ রোদ্দুর।
চিক চিক করা বাতিস্তম্ভের আলোয় -
সুশোভিত পৌরাণিক ইঁট পাথরের ঠাকুরবাড়ি।
পায়ে পায়ে সম্মুখে , বড় আপন করে দেখা
উন্মুক্ত গঙ্গা ।
বুক জুড়ে উন্মাদ জল !
নির্জনতায় কান পেতে রই –
ফিস ফিসিয়ে শোনায় - ওর উৎস ,ওর দেখা সভ্যতা ,
দূর মোহনার সঙ্গম , প্রবাহ - দূষণ ...।
ক্ষণিকের এই সখ্যতে - পথিকের এই তন্ময়তায়, দাক্ষিন্যে-
আধো আঁধারে ওর বুক ছুঁয়ে আসে
বিনত বাতাসের দল।
আম্রকুঞ্জ - শালবীথির সঙ্গতে
গাল জুড়ে শিহরিত হয় শীতল স্পর্শ ।
আমি শিউরে উঠি !
ঐশ্বর্যে উপচে ওঠা পূর্ণিমার চাঁদে। ক্রমশঃ স্পষ্ট হয়ে ওঠে
বয়ে যাওয়া স্রোতের রুমঝুম শব্দ।
পুষ্পসুকুমার সৌন্দর্যস্বপ্নে রূপায়িত হয় পারুলের পদধ্বনি।
এ হেন,
সৌরভ সুধায় প্রাণের. উষ্ণতায় দুমড়িয়ে পড়ে
দুর্জয় আবেগ ।
শুধু জানি ,আমি ভাসছি এক অনাবিল আনন্দে ,
অস্তিত্বের এই নির্জন মায়া , মুছে দিচ্ছে -
জীবনের নানা তুচ্ছ না পাওয়া ।
আমি হারিয়ে যাই - সেই সব পাওয়ার দেশে ,
স্বর্গ কী সেই দেশ?
মায়া ভরা কূল উপকূলে, সম্বিতে -
ঠাকুরদালানের মাঙ্গলিক সন্ধ্যা ধ্বনি। টুপ টাপ
শিশির । আম্রকুঞ্জ । শালবীথি পেরিয়ে
ধূপ - ফুলের সুগন্ধ - নাগরিক কোলাহল ।
বিচ্ছুরিত আলোয় এগিয়ে আসে ফিরতি পথ ।
ক্রমশঃ
গতিতে রাজপথ । শিয়ালদহ । পেরিয়ে যায় সোদপুর – নৈহাটি ...।
গভীর রাতে একা ছুটে চলা ট্রেনের শব্দে , লুকিয়ে
গুমরে গুমরে ওঠে রক্তে মাংসের বুক ।
দু’চোখে ভেসে বেড়ায়
গঙ্গার কলতানি , অন্তরাত্মায় পারুল ।
উত্তরবঙ্গ ।
প্রিয়দীপ
Reviewed by Pd
on
নভেম্বর ৩০, ২০১২
Rating:
Reviewed by Pd
on
নভেম্বর ৩০, ২০১২
Rating:
too much touchy -- ভীষণ স্পর্শকাতর -------
উত্তরমুছুনআপনার লেখা সবসময় মন ছুঁয়ে যায় কবি প্রিয়দীপ। খুব সুন্দর লিখেছেন। আরও এমন লেখা পড়তে চাই।
উত্তরমুছুনঅপূর্ব কবি । ভাবনা যেন জীবন্ত হয়ে আসে আপনার শব্দের নৈপুণ্যতায় । আপনাকে যতো পড়ি অবাক হয়ে রই ।
উত্তরমুছুনঅসামান্য
উত্তরমুছুন