
" একটি স্বপ্ন "
কাল রাতে অনেক তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাত্ করে কিভাবে জানি ভোর এর আলো ফুটে উঠলো। চোখ মেলে দেখি তুমি মাথার কাছে বসে আছো। খুব অবাক হলাম এই ভেবে যে তুমি কোথা থেকে আসবে? তুমি আমাকে আরো অবাক করে বললে, "শুভ জন্মদিন।" তখনই মনে পড়লো আজ আমার জন্মদিন। তারপর তুমি ধীরে ধীরে আমার কপালে একটা চুমু খেলে। আমি শুধু তোমাকেই দেখছিলাম অবাক হয়ে। তারপর আমাকে কিছুই বলার সুযোগ না দিয়ে বললে, "যাও সোনা ফ্রেশ হয়ে আসো, আজ তুমি সকালটা শুরু করবে আমার হাতের বানানো চা খেয়ে।" আমার মুগ্ধতা শুধু একটার পর একটা সিড়ি অতিক্রম করছিল। তোমাকে যে একটা থ্যাংকস হলেও বলা উচিত্ সেটাও তখন আমার মাথায় ছিল না। নিরবে ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি তুমি রীতিমত নাস্তা নিয়ে বেডরুমেই হাজির। আমি অবাক হয়ে বললাম--
-এতো কিছু কে করেছে?
-কেন আমি। তুমি তো জানোই প্রতি বছর এই একটা দিনের জন্যই আমি খুব ভালোভাবে প্রিপারেশন নিই।
-তাই বলে এতো কিছু কেন? তোমার অনেক কষ্ট হয়েছে তাইনা সোনা?
-তুমি আমার জন্য বছরের প্রতিটা দিন কষ্ট করতে পারো, আর আমি এই একটা দিন পারবো না?
তোমার কথা শুনে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না।
দৌড়ে গিয়ে তোমার বুকে মুখ লুকালাম, পাছে তুমি আমার চোখের জল না দেখে ফেলো। তুমি কিন্তু ঠিকই বুঝতে পারলে। আর আমাকে বললে, "প্লিজ আজকের দিনটা অন্তত কেদোঁনা, প্রায়ই তো এই কাজটা করো।" তুমিও না কেমন যেন। সবসময় আমাকে না ক্ষেপালে তোমার ভালোই লাগেনা। যখন বুঝতে পারলে আমি রাগ করেছি, তখন আবার আমার মুখটা উপরে তুলে আলতো করে কপালে চুমু খেলে। এরপর কি আর আমি রাগ করে থাকতে পারি? রাগ ভুলে গিয়ে তোমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম ।
তারপর দুজনে একসাথে অনেক অনেক গল্পের মধ্য দিয়ে নাস্তা শেষ করলাম। এরপর তুমি বললে, "চল আজ আমরা সারাদিন বাইরে ঘুরি।" আমি খুবই অবাক হলাম। কারন তুমিতো ঘুরতে খুব একটা পছন্দ করো না। অবশ্য আমি এটাও জানি যে, তুমি শুধুমাত্র আমার জন্যই বাইরে যেতে চাইছো। তারপরও তুমি বলেছো এটাই আমার জন্যে অনেক। আমি আমার সবচেয়ে প্রিয় নীল শাড়িটা পরে তোমার সাথে বের হই। সারাটিদিন অনেক মজা করে কাটাই দুজনে। আজ আমাকে তুমি আমার সব প্রিয় জিনিস ই খাইয়েছো। এভাবে কখন যে সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত নেমে আসলো বুঝতে পারিনি। এবারতো বাসায় ফেরার পালা। একদম মন চাইছিলো না বাসায় যেতে, কিন্তু যেতে তো হবেই। মন খারাপ করেই বাসায় ফিরলাম।
বাসায় ফিরে রুমে ঢুকেই দেখি সারা রুম মোমবাতির আলোয় ঝলমল করছে। মনটা মুহূর্তেই ভালো হয়ে যায়, ভাবতে থাকি তুমি এতোসব কখন করলে? তোমার দিকে চেয়ে দেখি তুমি তোমার সেই বিখ্যাত হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছো। ভাবছি তোমাকে কই বলা যায়?? হঠাত কোথা থেকে জানি একটা প্রবল বাতাস বয়ে আসলো, আর মুহূর্তেই পুরো রুম অন্ধকারে ঢেকে গেলো। হাত বাড়িয়ে তোমাকে ছুতে চাইলাম কিন্তু তুমি ছিলেনা। ঠিক তখনই পাশে কোথাও বজ্রপাত হল। আর আমার ঘুমটাও ভেঙ্গে গেলো। উঠে দেখি চোখের জলে বালিশ ভিজে একাকার। বুঝতে পারলাম এতক্ষন স্বপ্ন দেখছিলাম।
হুম স্বপ্নই তো। আমার প্রতিটি জন্মদিনেই আমি তোমাকে নিয়ে এই স্বপ্নটাই দেখি। জানিনা আদৌ কখনও তা পূরণ হবে কিনা?? কিন্তু তারপরও আমি স্বপ্ন দেখে যাই। তুমি এভাবেই প্রতিনিয়ত আমার স্বপ্নে আসো।।
চট্টগ্রাম ।
নাহিদা জুহি
Reviewed by Pd
on
নভেম্বর ১৪, ২০১২
Rating:
Reviewed by Pd
on
নভেম্বর ১৪, ২০১২
Rating:
পূর্নতা পেয়ে যাক আপনার না পাওয়ার ব্যাথা এই কামনা রইলো।
উত্তরমুছুন