আনোয়ার হোসেন






কোরবানি সমাচার
~~~~~~~~~~~~~~~

কোরবানির পশুর হাটে নেমেছে পশু আর মানুষের ঢল
সবল, দূর্বল পশুর সাথে আছে সবল , দূর্বল মানুষের কোলাহল ।
মানিব্যাগ যার মোটা তরতাজা , মোটা পশুটি তার
আর যে এসেছে যোগ-বিয়োগ কষে তার পক্ষে পশু কেনা ভার ।

পশু কেনা শেষে মাথায় গলায় পড়ানো হয় বাহারি সাজ
এটা হলো কোরবানির গরু , দেখাতে হবে ষ্ট্যাটাস ।
ঋণ খেলাপীর হাতে শোভা পায় মোটাতাজা গরুর দড়ি
মধ্য আয়ের বেচারারা ভাবে আহা কীযে করি !

ধর্মীয় মূল্যবোধ চলে গেছে আগেই যোজন যোজন দূরে
পশুত্বকে রাঙানোর বোধ চলছে নগরে বন্দরে ।
নিজের ভেতরের পশুটার দিকে তাকায়না তো কেউ
সেটাকে যে আগে বধ করা জরুরি ভাবছে কি তা কেউ ?

পাশব প্রবৃত্তি দমনের তরে এই রীতি হয়েছিল চালু
এসব কথা শুনবে কি তারা যাদের মাদকতায় চোখ ঢুলুঢুলু !
মদ আর মাংসের দারুন সংযোজনে জমবে আসর বেশ
অষ্টতলার প্রমোদ কুঞ্জে কাঁটবে না এর রেশ।

ধর্মগ্রন্থের কোথায় কি লেখা আছে; সেসব পড়ে থাকুক পিছে !
ভোজন বিলাসের আড্ডাটাকে করা যাবেনা কোনক্রমে মিছে !
ফ্রিজের দোকানগুলোও দেখি বেশ সরগরম
মাংসগুলো তরতাজা রেখে সারা বছর খেতে হবে হরদম ।

আংগুল উঁচিয়ে দাম বলে যাওয়া আর পশুর পিঠ চাপড়ে গুণকীর্তণ
পশুটি বোধ হয় মনে মনে বলে , ‘ এ যাতনা সওয়া ভার’
ধারালো ছুরিতে বধ করে তাড়াতাড়ি আমাকে করো সাবার ‘ ।

বধের পরে কোথা থেকে জোটে ভুখা- নাঙ্গার দল
এদের অত্যাচারে কোরবানিটা বুঝি হয়ে যায় বিফল !
সাড়ি বেঁধে তারা দাড়িয়ে থাকে আর গোনে প্রমাদ
সারা বছরেরও পায়নিকো তারা এতটুকু মাংসের স্বাদ ।

শেষ বিকেলের সঞ্চয় যেটুকু তাই নিয়ে ভাবে ওরা
মাংসতো কিছু পাওয়া গেল; খেতে হবে নুন-লঙ্কা ছাড়া ।
ঈব্রাহিমের কোরবানির ইতিহাস হয়ে গেছে আজ বাসি
ধর্মের লিখন পড়েনা কেউ; ওগুলো না পড়লেই বাঁচি !!

কতভাগে ভাগ করেছ, বিলিয়েছ কতভাগ
কতভাগ রেখে ঠেসে ফেলেছ ফ্রিজের সব তাঁক !
এসব বচন সেকেলে তাই পড়োনা কেউ ভাই
রস চোঁষা হাড্ডির মতোন ডাস্টবিনে ফেলে দিও তাই ।

সবশেষে বলি মন দিয়ে শোন , ওহে মুসলিম ভাই
কোরবানিটা যেন ঠিক ঠিক হয় ; এই আর্তি জানিয়ে যাই ।


♪♫•*¨*•.¸¸


আনোয়ার হোসেন আনোয়ার হোসেন Reviewed by Pd on অক্টোবর ২৭, ২০১২ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

সুচিন্তিত মতামত দিন

banner image
Blogger দ্বারা পরিচালিত.