মৌ দাশগুপ্তা






সুধী,
...¸¸´¯`.¸¸.

১৪১৯ বঙ্গাব্দের শব্দের মিছিলের ত্রয়োদশসংখ্যার বিশেষ শারদ সংকলন প্রকাশের শুভলগ্নে আপনাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক শারদ সম্ভাষণ।

“আশ্বিনের মাঝামাঝি উঠিল বাজনা বাজি” 

দেখতে দেখতে শরৎকাল হাজির, বাতাসে আগমনীর সুর ছড়িয়ে। বাজনা বাজিয়ে । সেই বাজনা গ্রামবাংলার আড়বাঁশীর মধুর তানই হোক কিংবা ঢাকের টাক্-ডুমাডুম, মনটা বেশ উড়ুউড়ু করে তোলে।বাঙালীর জীবনে শরতের আগমনীর সুর আমাদের অবচেতন মনকে এক অতীন্দ্রিয় চেতনার স্তরে নিয়ে যায়, যেখানে আমরা চিন্ময়ীকে সাক্ষাৎ মৃন্ময়ীতে দেখতে পাই।অপার্থিব এক সৌন্দর্য্য ও তৃপ্তিবোধ নিয়ে প্রকৃতি ধরা দেয় আমাদের ঘরের, আমাদের মনের আনাচে কানাচে।নতুন সাজে সাজতে, নতুন করে নিজেকে ফিরে পেতে। এককথায়,নতুনত্বের স্বাদ পেতে চায় আমাদের মন।বাঁধনছাড়া এই মনের দলিল আমাদের বাংলা সাহিত্যের উন্মাদনার শারদীয় সম্ভার।সাহিত্যপ্রেমী বাঙালীয়ানায় নতুন পূজোসংখ্যা পত্রপত্রিকাগুলিও নতুন রূপে নিজেদের সাজিয়ে তোলে। সাহিত্যপথের নবীন ও প্রবীণ পথিকরা,অনভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ অভিযাত্রীরা কি ভাবছেন, কিভাবে চিন্তা করছেন,আধুনিক দিন-প্রতিদিনের ঘটনাবহুল চালচিত্র কিভাবে তাঁদের কলমকে প্রভাবিত করছে, সে কথা ছাপার অক্ষরে আস্বাদনের জন্য উন্মুখ থাকেন সাহিত্যপ্রেমী আগ্রহী পাঠকেরা। বাংলা ই-ম্যাগজিন, ব্লগাজিনগুলোই বা তাহলে তাঁদের চাহিদা মিটানোর ক্ষেত্রে পিছনে পড়ে থাকবে কেন? সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখে নব কলেবরে , নতুনতর আঙ্গিকে, সেজে উঠেছে আমাদের সবার বড় আদরের, বড় গর্বের, “শব্দের মিছিল”।


জন্মলগ্ন থেকে নানা গুণীজনের হাত ধরে আমাদের “আত্মার সান্নিধ্যে যারা” গ্রুপের সাহিত্য মুখপত্র “শব্দের মিছিল” ত্রয়োদশ সংখ্যাপূর্তির উৎসবে সামিল হচ্ছে।ভাবতে অবাক লাগছে, মনে হচ্ছে, এইতো সেদিন শুরু হল এর জয়যাত্রা। মনে পড়ে অতুৎসাহী বন্ধুস্থানীয় সকল সাহিত্যানুরাগীদের কথা।যারা অত্যন্ত যত্নের সাথে “শব্দের মিছিল”-কে বন্ধুরপথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।এখানে প্রতিষ্ঠিত কবি/লেখকদের পাশাপাশি প্রান্তিক পাঠক/পাঠিকারাও অনায়াস দক্ষতায় তাঁদের সাহিত্যানুরাগের, সাহিত্যচর্চার ছাপ রেখেছেন। ছড়িয়ে দিয়েছেন মনের কথা, মরমীয়া অনুভব, বিভিন্ন স্বাদের কবিতা, ছড়া, গল্প, প্রবন্ধ, প্রতিবেদন,রম্যরচনার মাধ্যমে। ঘরে বাইরে আমাদের “শব্দের মিছিল” বহু গুণীজনের, বিদগ্ধ মননের, ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে। " আত্মার সান্নিধ্যে যারা " সেই সন্মান, সেই জয়যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন।“শারদ সাহিত্য” কিংবা “পূজা সংখ্যা” শব্দগুলির সাথে আমাদের পরিচয় শুধু নামি-দামী পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে। “শব্দের মিছিল : বিশেষ শারদ সংকলন”টি কোন মাপকাঠিতে তৌল করা যায়, সে বিচার পাঠক/ পাঠিকাদের ওপরই ন্যস্ত করা গেল। আমরা দুই বাংলার সাহিত্যানুরাগীদের ভাবনার ফসল।আমাদের সাহিত চর্চার খবর যদি কেউ জানতেই না পারে তাহলে আমাদের সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ। যেমন দর্শকহীন মঞ্চে অতিকুশল অভিনয়ও অর্থহীন। তাই নিজেদের আলোকিত করতে “শব্দের মিছিল”কে আরো উজ্জ্বল ও আকর্ষনীয় করুন। আপনাদের সবাইকে অনুরোধ, “শব্দের মিছিলে আসুন, পাশে থাকুন, হাতে রাখুন হাত, আমাদের সাথে পা মেলান জয়যাত্রায়”, মনের সমস্ত দূয়ার খুলে প্রাঞ্জলভাবে লিখুন। “শব্দের মিছিল” পড়ুন ও পড়ান। আমাদের উৎসাহ দিন, উজ্জীবিত করুন।

পরিশেষে, দেবীপক্ষের এই শুভ অবসরে সকল পাঠক-পাঠিকাকে জানাই যথাযোগ্য শারদ সম্ভাষন।এই শারোদৎসবের মূল তাৎপর্য বর্ষার কালো মেঘ কেটে গিয়ে শরতের সোনার আলোর প্রকাশ,অসৎ-এর বিনাশ শেষে সত্যের  আত্মপ্রকাশ,তমসাবৃত অন্ধকারকে অপসারণ করে আলোর উদ্ভাস।এই মঙ্গলসুরটি যেন উৎসবমুখর দিনে আমাদের সবার মনে বেজে ওঠে।

আজ জগৎব্যাপী অহেতুক হিংসা, পাশব জিঘাংসার ব্যাপ্তী দেখে যে কোন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মন শিউরে উঠছে।কিন্তু কথায় আছে, দুর্বুদ্ধি তখনই রাজত্ব করে যখন সুবুদ্ধি অন্যায় দেখেও চুপ করে থাকে।তাই আসুন আমরাও সাধ্যমত এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরি।রণক্ষেত্রে গিয়ে অস্ত্রধারণ করতে নাই বা পারলাম, মনক্ষেত্রে তো আমরা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারি। মায়ের পায়ে নিরীহ ছাগ-বলি না দিয়ে, বলি দিতে পারি, মনের হিংসা, দ্বেষ, লোভ, মোহ, পরশ্রীকাতরতা, অসহিষ্ণুতা আদি বন্য পশুদের। আসুন, সবাই মিলে বলি-

“সর্বে ভবন্তু সুখীনঃ।“
“বসুধৈব কুটুম্বকম”

মৌ দাশগুপ্তা
কলকাতা ~




মৌ দাশগুপ্তা মৌ দাশগুপ্তা Reviewed by Pd on অক্টোবর ১৩, ২০১২ Rating: 5

৫টি মন্তব্য:

  1. আগের সংখ্যা পড়েছি পাঠকের মুক্ত মনের কথা , পাঠকের সাহিত্যর প্রতি ভাবনা , কবিদের থেকে চাওয়া পাওয়া । শব্দের মিছিলের উচ্চ মানের চিন্তা ভাবনার ফসল থেকেই আমরা পেয়েছিলাম সেই সম্পাদকীয় । একজন পাঠক কে যে সন্মান প্রদর্শন করা হয়েছে , পাঠক হিসেবে গর্বিত হই ।

    শব্দের মিছিলের এই সৃজনশীল ভাবনা , শৈল্পিক দৃষ্টিকোণ থেকেই আমরা পেয়ে যাচ্ছি বিভিন্ন সম্পাদক কে । তেমনি আপনি একজন। কবিতার পাশাপাশি ভীষণ সাবলীল এবং অনেক উচ্চ স্তরের লেখা ।
    মিডিয়া জগতের পেশাদারিত্ব কেও ছাপিয়ে যাচ্ছে এই শব্দের মিছিল । আমি ভীষণ ভাবেই আশাবাদি -- '' আমার বাংলার '' নেপথ্যের মানুষের ছোঁয়ায় শব্দের মিছিল আরও সৃষ্টিশীল হবে , নতুন প্রতিভাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে ।

    পরিশেষে , আপনার সূরেই বলি '' রণক্ষেত্রে গিয়ে অস্ত্রধারণ করতে নাই বা পারলাম, মনক্ষেত্রে তো আমরা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারি। মায়ের পায়ে নিরীহ ছাগ-বলি না দিয়ে, বলি দিতে পারি, মনের হিংসা, দ্বেষ, লোভ, মোহ, পরশ্রীকাতরতা, অসহিষ্ণুতা আদি বন্য পশুদের। আসুন, সবাই মিলে বলি-

    “সর্বে ভবন্তু সুখীনঃ।“
    “বসুধৈব কুটুম্বকম”

    আগমনী শুভেচ্ছা রইল ।

    উত্তরমুছুন
  2. অভুতপুর্ব ~~~ আয়োজন ।

    উত্তরমুছুন
  3. আপনার লেখনীর স্পর্শে আমাদের শব্দের মিছিলের শারদীয়া সংকলন এক অভিনবত্বের ছোঁয়া পেয়েছে --- শারদীয়ার অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা রইলো কবি আপনাকে ---

    উত্তরমুছুন
  4. আন্তরিক শ্রদ্ধা ও প্রনাম কবি । শব্দের মিছিল কে আরও প্রসারিত করার লক্ষ্যে আপনার সক্রিয় পদক্ষেপ আমাদের উজ্জীবিত করে তুলেছে ।

    শুভেচ্ছা আগমনীর ~

    উত্তরমুছুন
  5. আন্তরিক ধন্যবাদ আপনাদের সবাইকে,শব্দের মিছিল আমাদের সাদা ক্যানভাস, যেখানে আমরা জীবনের ছবি আঁকি। আমার খুব ভালো লাগে যখন অপরের মনের সহজ সরল অনুভবকে এখানে ছাপার হরফে পড়তে পারি, অনুভব করতে পারি।বাংলা ভাষার সৃজনশীলতা ও প্রয়োগ নিয়ে শব্দের মিছিলের ভাবনা সকলকে উৎসাহিত করবে এই আশা রাখি ।সকল লেখক/কবিবন্ধুদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি সুন্দর সুন্দর রচনার জন্য এবং সে সাথে শব্দের মিছিলের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি!সাথে অবশ্যই সবাইকে জানাচ্ছি আমার শারদীয়ার প্রীতি, শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা ।

    উত্তরমুছুন

সুচিন্তিত মতামত দিন

banner image
Blogger দ্বারা পরিচালিত.