এম আর ফারজানা









-এবং নাফিস 
~~~~~~~~~~~~



স্বপ্নের মাধুরী মিশিয়ে বাবা-মা সন্তানদের বড় করে তোলেন। ছেলেমেয়েরা যত বড় হতে থাকে মা-বাবার স্বপ্ন গুলো ডানা মেলতে থাকে চারদিকে তাদেরকে ঘিরে । এক সময় সন্তানরা স্বদেশ ছেড়ে বিদেশে পা বাড়ায় জীবনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য। তেমনি এক আদরের ছেলে নাফিস। পুরো নাম কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিস । বাবা কাজী মোঃ আহসান উল্লাহ ন্যাশনাল ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট, মা গৃহিণী । ২০০৯ সালে রেজওয়ানুল ঢাকায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকম প্রকৌশল বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি আট সেমিস্টার সম্পন্ন করেন এবং ছাত্র ভিসায় পা বাড়ান যুক্তরাষ্ট্রে গত জানুয়ারিতে। রেজওয়ানুল ছয় মাস ধরে বাংলাদেশী-বহুল এলাকা কুইন্সের জ্যামাইকায় বাস করছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় গত বুধবার (১৭ অক্টোবর ২০১২) দুপুরে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে বাংলাদেশী যুবক কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিসকে গ্রেপ্তার করা হয়। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গোয়েন্দাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছেন রেজওয়ানুল। আদালতে দাখিল করা অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, রেজওয়ানুল এক হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা দিয়ে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ভবন উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। মার্কিন অর্থনীতিতে আঘাত হানা ছিল তাঁর লক্ষ্য। 
কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিসের বিরুদ্ধে মামলা চলবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অভিযোগপত্র গ্র্যান্ড জুরিতে পাঠানো হয়েছে। মার্কিন আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে রেজওয়ানুলের মামলা গ্র্যান্ড জুরির কাছে উঠবে। জুরির অভিমত সাপেক্ষে অভিশংসকেরা এরপর আদালতে অভিযোগ উত্থাপন করবেন। রেজওয়ানুল তখন নিজেকে নির্দোষ ঘোষণা বা দোষ স্বীকারের সুযোগ পাবেন। তিনি এখন ব্রুকলিন কারাগারে রয়েছেন।

বিচারে নাফিসের কি হবে আমি জানিনা। আমি মনে প্রাণে চাই সে নির্দোষ প্রমাণিত হোক । বাংলাদেশের একজন নাগরিক কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যুক্ত থাকতে পারে, এটা বিশ্বাস করতে আমার কষ্ট হয়। কারন আমরা যারা প্রবাসে থাকি আমাদের ব্যক্তিগত পরিচয় ছাপিয়ে যে পরিচয়টি বড় হয়ে উঠে সেটা হচ্ছে আমরা কোন দেশের। ভাল বা মন্দ কাজ যাই করি না কেন তখন নিজস্ব কাজ থাকে না হয়ে ঊঠে দেশের পরিচয়। নাফিসের এই ঘটনার পর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে এক ধরনের উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে বিশেষ করে যারা ছাত্র ভিসায় এখানে এসেছে । যদি ও বলা হয়েছে এর জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
এক নাফিস পুরো বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি নয়, বাংলাদেশী আমেরিকানরা নাফিসের সন্ত্রাসী পরিকল্পনাকে সবার মত নয় বলে নিন্দা করে এই বক্তব্যটি আমেরিকার জনগণের কাছে তুলে ধরতে ‘বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকা’ আয়োজন করেছিল এক মানববন্ধন কর্মসূচীর। নিউইয়র্কে বাঙালীর প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটের প্লাজা স্কয়ারে ছুটির দিন রবিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশটি মূলধারার মিডিয়াগুলো গুরুত্বের সাথে কভার করতে এসেছিল। ‘সন্ত্রাসীরা আমেরিকা, বাংলাদেশসহ সব অঞ্চলের ও মানুষের শত্রু, সন্ত্রাসীদের রুখে বিরুদ্ধে দাঁড়াও-প্রতিরোধ কর’ প্ল্যাকার্ড নিয়ে সমাবেশে শতাধিক প্রবাসী অংশ নেন।
‘বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকা’ আয়োজিত ওই মানববন্ধনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে যোগ দিয়েছিল ‘জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন,’ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্যপরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী আইনজীবী পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। 
আজ আমার বাবার একটি কথা ভীষণ মনে পড়ছে । আমার বাবা একজন সৎ, ন্যায়পরায়ণ নীতিবান শিক্ষক ছিলেন । সবসময় একটি কথা বলতেন জীবনে যাই কিছু হওনা কেন আগে একজন সৎ মানুষ হও। তুমি যদি সততার সাথে জীবন যাপন কর পৃথিবীর যে দেশেই থাকনা কেন নির্ভয়ে পথ চলতে পারবে। তখন তোমার পথ কেউ রুখতে পারবেনা। মনে রেখো সত্য সবসময় সবকিছুকে ছাপিয়ে, মাড়িয়ে চলে ।
একজন নাফিসের অবস্থান আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে গেল আমরা কোন পর্যায়ে আছি। ভবিষ্যতে হাজার ও নাফিসের জন্য আমাদের সচেতন হতে হবে । বাংলাদেশে যে ভাবে শিক্ষার হার বাড়ছে সে ভাবে কি বাড়ছে শিক্ষার মান ? শুধু নোট পড়ে এমসিকিউয়ের উত্তর দিয়ে ছেলেমেয়েরা ভাল ফলাফল করতে পারে । কিন্তু এতে করে কি এরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে ? আমাদের প্রয়োজন শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি বহুমত সম্প্রতিময় আদর্শের দীক্ষায় দীক্ষিত করা । এতে করে দেশে এবং দেশের বাইরে যেখানেই থাকুক না কেন জীবনের সঠিক পথ এরা খুঁজে পাবে ।


 কনট্রিবিউটিং এডিটর , পিবিসি, ইউএসএ 
♪♫•*¨*•.¸¸

এম আর ফারজানা এম আর ফারজানা Reviewed by Pd on অক্টোবর ২৬, ২০১২ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

সুচিন্তিত মতামত দিন

banner image
Blogger দ্বারা পরিচালিত.