- আচ্ছা,আপনি কাকে সবচেয়ে বেশী ভালবাসেন? আপনার স্ত্রী,সন্তান? আপনার বাবা-মা? আপনার অফিসঘর?
হতচকিত পুরুষ মানুষটির একটি উত্তর-ভালবাসি,সক্কল কে ভালোবাসি।
- কিন্তু সবচেয়ে বেশী? এতো বিড়ম্বনা! আপনার স্ত্রীকে না? মানে প্রিয় কে? সন্তান?
- হ্যাঁ, সন্তান কে ছেড়ে থাকতে পারিনা।
- আর স্ত্রী?
- আমার চোখে এই যে চশমাটা দেখছেন সেটা ছাড়া আমি একদম চলতে পারিনা। এটি জরুরী। স্ত্রী ও তাই।
- আর প্রেম? করেছেন কখনো?
- হ্যা,কলেজে ,বিশ্ববিদ্যালয়ে সে সুযোগ তো এসেছেই।
- আপনার একজন বান্ধবীর নাম বলবেন?
- মনীষা,দারুন ছিল দেখতে! তার চোখের চাউনিতে যেন যাদু ছিল। সুপ্রিয়া সে ছিল দারুন পড়াশুনায়। বরুনা আমাকে প্রায় তার বাড়ীতে ডাকত।
- ভাল কাকে বেসেছেলেন?
-তিথিকে। সে আমার জন্য হষ্টেল থেকে টিফিন নিয়ে আসত প্রতিদিন । যত্ন করে খাওয়াত। পুজোয় গিফট দিত।
- আর আপনি?
- আমার আসলে তেমন টান ছিল না তাকে নিয়ে। কিনতু এই আদর যত্নগুলি আমি হারাতে চায়নি।
- তিথি জানত আপনার মনে কি ছিল?
- না, না, তার বিয়ে ঠিক হয়ে যাওয়ার পর সে আমার শার্ট ভিজিয়ে দিয়েছিল কেঁদে । আমি আমার কথাটা বিদায় বেলায় মুখে আনতে পারিনি।
- আপনার প্রেম তবে কার সঙ্গে প্রকৃত হয়?
- আসলে প্রেম বলে কিছু মনে নেই। ঝরনা একটা সুন্দরী মেয়ে ছিল। ভালো নাচত। তার গায়ে খুব মিষ্টি গন্ধ ছিল। একটা আকর্ষন ছিল তার শরীরে। ওর হাইনেক গলার ব্লাউজের ধার ধরে নেমে আসত চোখ।কিছুতেই দৃষ্টি ফেরাতে পারতাম না। তার শরীরের প্রতি আমার আস্বাভাবিক টান আমি বুঝতাম। জানি ওকে বললেই সে রাজী হয়ে যেত কিন্তু আমি নিয়ম ভাঙ্গিনি।
- তারপর?
- তারপর... সম্পর্ক এসেছে জীবনে অনেক! চাইলে ঢালু সিঁড়ি বেয়ে গড়িয়ে যেতাম অনেক দূর কিন্তু ভেতরের পুরুষকে জাগায়'নি কখনো আমি। যদিও সাবিত্রীকে আমি কখন বলিনি - আমিও প্রেমিক ছিলাম, ভালবাসার মানুষকে পাবার জন্য ছুটিয়ে ছিলাম রাতের ঘুম।একসময় প্রতিশ্রুতি ভেঙ্গে ছিলাম , এক সময় শরীর নিয়েছিলাম। ক্লিনিকে নিজের সন্তান ফেলার সব আয়োজন টুকু'ই পুরো করেছিলাম নিজের হাতেই। আমিও চেয়েছিলাম নিস্তার পেতে সেই চেনা মানুষটির হাত থেকে, মনে মনে নতুন শরীর ,নতুন অস্ত্বিত্বের সন্ধানে ব্যাকুলে। একঘেয়ে হয়ে পড়েছিল এলিনা আমার কাছে। অক্টপাসের মত তার উপস্থিতি আমাকে ভীত ও ক্লান্ত করে তুলেছিল ক্রমশ। নাহ্ ! ভালবাসা নয় একটা সময়ে এসে বদল চেয়েছিলাম আমি। এলিনার বিছানা, বালিশ, চুলের গন্ধ, পিঠ কাটা ব্লাউজ, ট্রান্সপারেন্ট শাড়ী আমার দম বন্ধ করে দিত। প্রেমিকা নয় একজন উপযুক্ত জীবন সঙ্গী খুঁজেছিলাম তখন। তাই এলিনার সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতায় আমার একটু ও কষ্ট হয়নি। তাই ভালবাসা শব্দটা আমাকে আর টানেনি কখনো। বার বার মনে হয়েছে পুরুষের একজন সঙ্গী দরকার। যার সঙ্গে স্ত্রীর শোয়া বা না শোয়ার প্রশ্নটা খানিকটা অবান্তর। অর্থাৎ সে যদি আমাকে ঘুম ভেঙ্গে আমার ব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে দেয়, আমায় স্নানের জল রেডি করে দেয়, আমার সিগারেটের প্যাকেটটা যত্ন করে রাখে ব্যাস তাতেই চলবে। অকারন প্রশ্ন , সন্দেহ, জবাবদিহি থেকে রেহাই চায় হয়ত পুরুষ। আমি সেদিন দায়বদ্ধতা থেকে'ই শুধুমাত্র মুক্ত হতে চেয়েছিলাম , এলিনার প্রেম থেকে হয়ত নয়। গলায় দড়ির ফাসের মত আটকে ছিল প্রেম। দাম্পত্যে তাই আর সে সবের জায়গা দেইনি। ওটাকে আমি মেকানিক্যাল রেখেছি। যেমন রেল লাইনের বুক ধরে চলে রেল তেমন আমি আর সাবিত্রী চলেছি। সময় ধরে চলা তারপর আবার আলাদা। কিন্তু ফাঁকে ফাঁকে ষ্টেশনে থামলে আমি নিজেকে খুঁজতে থাকি। যেদিকে তাকাই এলিনা কেই ছবির মত পাই। হারানোর যন্ত্রনায় নয় , তাকে পাই আমার সামগ্রিকতায় । শরীরে জুড়ে থাকা এক নারী যে আমাকে ভেঙ্গে চুড়ে মিশিয়ে দিয়ে গেছে এক অতলস্পর্শী কান্নার নির্জনতায়।
হটাৎ মোবাইলে ভাইব্রেসন হয় বুক পকেটে । আমার ছেলে বুঝি! চমকে দেখি স্ক্রীনের লেখা-পাপা, হোয়ার আর ইয়ু? কল মি আরজেন্ট-বুবুন ।
জিনাত ইসলাম
Reviewed by Pd
on
জুলাই ১১, ২০১৫
Rating:
Reviewed by Pd
on
জুলাই ১১, ২০১৫
Rating:


কোন মন্তব্য নেই:
সুচিন্তিত মতামত দিন