চন্দনকৃষ্ণ পাল



     বই এর জগতে প্রবেশঃ নিজের গল্প

পৃথিবীটা সবেমাত্র তার নিজের রূপ আমার চোখের সামনে মেলে ধরতে শুরু করেছে। যা দেখি শুধু অবাকই হই। বাড়ির সামনের ছড়া দিয়ে বৈশাখের শুরুতে ঘোলা পানি দ্রুত বেগে যেতে থাকে হাইল হাওরের দিকে। বাড়ির বড়রা ঠেলা জালে সেই পানিতে মাছ ধরে। বিচিত্র রঙে রাঙ্গানো পুটি মাছের শরীর। টেংরা, পাবদা, বাতাসীর ঝাঁক। খালুই ভর্তি মলা। আরো কতো মাছ। বাড়ির সামনের বড় দীঘিটায় শ্বেতপদ্মের মেলা। পদ্ম পাতায় জল জমে থাকে। রূপোলী জলবিন্দুতে সূর্যের আলোর ঝিলিক। সন্ধ্যের পর নূতন পানিতে মাছের চলাফেরা। টর্চ জ্বেলে কুছ দিয়ে মাছ ধরা। খালুই ধরার দায়িত্ব তো আমার। আশ্বিন-কার্তিকে ঢেউ খেলানো দিগন্ত বি¯তৃত ধানক্ষেত। অগ্রহায়ণে সেই ধানক্ষেতে স্বর্ণ রাশি। আবার পৌষে পুরো মাঠ শূন্য। পশ্চিমা বাতাসের দাপাদাপি, বুকের ভেতর হু হু করে ওঠে কষ্টের ঢেউ। প্রকৃতির পাঠশালার ছাত্র আমি প্রকৃতি নামক বই থেকে পাঠ নিচ্ছি শুধু। বুকের ভেতরে থরে তরে জমা হচ্ছে ভালোবাসার পলি মাটি।

সেই সময়ই হাতে আসে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার এর ‘ঠাকুমার ঝুলি’। দাদু-ঠাকুরমাকে পাইনি আমরা। দিদিমা আর বড় পিসির মুখে শুনা অনেক গল্প পেয়ে যাই ঠাকুরমার ঝুলিতে। কি অসাধারণ সব গল্প। কল্পনার জগৎকে উসকে দেয়া সে সব গল্পের কথা ভাবতে ভাবতেই ঘুম নেমে আসতো চোখে। অনেক অনেক বার করে পড়ে ফেলা হলো ঠাকুরমার ঝুলি। এর মধ্যে ১৯৭১ এসে গেলো। শরনার্থী হিসাবে কমলপুর হয়ে ধমনগর। ধর্মনগরের গহীন জঙ্গল পদ্মবিলে স্থান হলো আমাদের। ওখানে ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের পাঠ্যবই কিনে দিলেন বাবা। বাংলা বইটার কথা খুব মনে পড়ে। খয়েরী আর লাল কালিতে ছাপা অসাধারণ সব গল্প, ছড়া আর কবিতা। যুদ্ধ শেষে ফিরে এসেও অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করেছিলাম বইটি। ১৯৭২-৭৩ এর দিকে শ্রীমঙ্গলে বিশিষ্ঠ সাংবাদিক বিধূ ভূষণ পাল স্বপন হাতে ধরিয়ে দিলেন আরব্য উপন্যাস। কল্পনার আর এক জগৎ। মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার মত সব গল্প। শাহারজাদীর জবানীতে বলা সেসব অমর গল্প আজও মনে পড়ে। তার কিছু দিন পর ঐ স্বপনদাই হাতে দিলেন ঈদ সংখ্যা ‘কিশোর বাংলা’। ঢাউস সংখ্যাটিতে ছাপা হয়েছিলো অসাধারণ কিছু গল্প উপন্যাস আর নাটক। বাংলা-কিশোর উপন্যাস আর নাটকের সাথে আমার প্রথম পরিচয়। ইমদাদুল হক মিলনের ‘চিতা রহস্য’, আলী ইমামের ‘অপারেশন কাকনপুর’, আর রফিকুল হক দাদুভাই এর ছোটদের নাটক ‘বই বই হৈচৈ’ কতবার যে পড়েছি তার শেষ নেই। এক কিশোরের বইয়ের জগতে সেই যে প্রবেশ ঘটলো। আর ফেরা হয়নি। আজও নূতন বই এর গল্প পয়তাল্লিশোর্ধ মানুষটাকে শিশু করে দেয়। বই পছন্দ হয়ে গেলে গাড়ি ভাড়ার টাকা ছাড়া পকেটের সব টাকাই চলে যায় বইয়ের পিছনে। কি নেশা! কি নেশ!!

     এ নেশাটা খারাপতো নয় - 

এখন পিছনে ফিরে তাকালে দেখি স্বপনদা এক অসাধরণ নেশা ধরিয়ে দিয়েছিলেন আমাকে। স্বপ্নময় এক জগৎ খুলে গিয়েছিলো চোখের সামনে। এলাকার সমস্ত লাইব্রেরি, ব্যক্তিগত সংগ্রহ সমানে চেখে বেড়িয়েছি আমি। ফলাফলও হাতে হাতে পেয়েছি। ইংরেজি অংক আর কিছু সংজ্ঞা ছাড়া কোন কিছুই মুখস্ত করে লিখতে হয়নি জীবনে। পাঠ্যবইটা শুধু পড়ে নিয়েছি মনোযোগ দিয়ে। তারপর নিজের মতো লিখে এসেছি পরীক্ষা হলে। না আমার শিক্ষকরা বকাঝকা দেননি। অনেক সময় ডেকে নিয়ে বলেছিলেন, নিজে লিখেছিস? ভালো। বিপ্লবী জিতেন্দ্রনাথ পাল ছিলেন বাংলার শিক্ষক। ডেকে নিয়ে মাথায় হাত রেখে বলেছেন। বাংলায় তুই অন্যদের চেয়ে আলাদা, তোর জন্য আমার আর্শীবাদ রইলো।

মা বাবার বকা খেয়েছি প্রথম প্রথম। কিন্তু রেজাল্ট যখন তাদের মনোমতো হয়েছে তখন  কোন বাধা পাইনি। গ্রামের আর দশটা ছেলে যখন ক্রমান্বয়ে ঝরে যাচ্ছিল পড়াশুনা থেকে আমি তখন আমার মতো এগিয়ে গেছি স্কুলের শেষের দিকে। তারপরই কলেজ জীবন। দেয়াল পত্রিকা, একুশের সংকলন, ছড়া পত্রিকা ইত্যাদির সাথে জড়িয়ে যাওয়া। সাথে সাংবাদিকতা। খেলাঘর, উদীচীর একনিষ্ঠ সদস্য। বাজে নেশার বারোটা পথের চাইতে বই পড়ার একটা নেশা মানুষকে কতোখানি পাল্টে দেয় এটা নিজেকে দিয়ে যাচাই করেইতো বুঝি। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার যখন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে আলোকিত মানুষ চাই এর ডাক দিলেন আমরা বুঝলাম আমরা ঠিক পথেই চলছি। আজ কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র। শত প্রতিকূলতার মাঝেও লক্ষ লক্ষ আলোকিত সন্তান গড়ে যাচ্ছে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র। আমার বিশ্বাস সেই আলোকিত সন্তানদের হাত ধরেই এই বাংলাদেশ একদিন উঠে দাড়াবে। আর সে দিনের সূর্য ওঠার খুব একটা দেরী নেই।

আপনি একজন সন্তানের পিতা হলে নির্দ্বিধায় সন্তানের হাতে বই তুলে দিতে পারেন। একটু একটু করে দেখবেন আপনার সন্তান একটি আলোকিত মানুষ হয়ে উঠেছে। তথ্য প্রযুক্তি আজকের এ দুনিয়ার মানুষকে যেমন দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ভালো পথে তেমনি দ্রুতই নিয়ে যেতে পারে খারাপের পথে। শুধু পথ বেছে নেবার অপেক্ষা, তাই মোবাইল বা কম্পিউটারের মাউস তুলে দেবার আগে তার হাতে বই তুলে দিন। একজন মানুষের ভেতরের ভালো মন্দকে চিনে নিতে শিখুক আপনার সন্তান। তার বিবেককে জাগ্রত করে দিতে পারলে তার এগিয়ে যাবার পথে বিরাট একটা বাধা দূর হয়ে গেলো। আপনি তো চান আপনার সন্তানটি মানুষ হোক। বই পড়ার নেশা ধরিয়ে দিন। মানুষ হবার পথে এগিয়ে গেলো এক ধাপ আপনার প্রিয় সন্তান!

    কি দিবেন প্রিয় শিশুটির হাতে?

শূন্য থেকে ছয় সাত বছরের শিশুটির হাতে দেবার মতো মজাদার প্রকাশনা আমাদের নেই বল্লেই চলে। যাও আছে তারও আকাশ ছোঁয়া দাম। যারা উদ্যোগ নিতে পারেন তারাতো সব মহাজন। তাদের চাই শুধু বাণিজ্য। কাড়ি কাড়ি টাকা। এরা টাকার বস্তা নিয়ে কেউ যাবেন কবরে, কেউ যাবেন শ্মশানে। সরকারী প্রতিষ্টান যেমন বাংলাদেশ শিশু একাডেমী, বাংলা একাডেমী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা বিভাগ তাদের ওসব নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই। আসলে ওসব জায়গায় শিশু মনস্তত্ত বোঝার মতো মেধাই নেই। আর মাস শেষ হলে যেহেতু বেতন চলে যাচ্ছে ব্যাংক হিসাবে সেহেতু ওসব নিয়ে তাদের মাথা ব্যাথাও নেই। কিন্তু মাথা ব্যাথা তো আপনার। কারণ সন্তানটিযে আপনার! তাই খুঁজুন বই পাড়ার শিশুতোষ বই এর দোকানগুলোয়। দেশী প্রকাশনার পাশাপাশি একটু দামী বাইরের কিছু প্রকাশনাও পেয়ে যেতে পারেন। বাচ্চাটার জন্মদিনে খাবার আর কাপড় চোপড়ের পাশাপাশি বইও তুলে দিন ওর হাতে। মাঝে মাঝেই একটা দুটো রঙ্গিন বই ওর হাতে তুলে দিন। খেলনা পিস্তল আর ব্যাটারী চালিত গাড়ীর চাইতে সস্তায় আপনার শিশুর মানসিক প্রবৃদ্ধিতে বই একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ও ছবি দেখতে দেখতে জেনে যাবে আগামীর পৃথিবীতে মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার জন্য তাকে বই এর কাছে যেতে হবে। আর আপনার নিজের যদি বই এর প্রতি আগ্রহ থাকে তবে আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার শিশু চকলেট এর চাইতে বই পেলে বেশী আনন্দিত হবে।

    কৈশোর এগিয়ে যাক স্বপ্নের পথে -

স্বপ্ন দেখার বয়সতো এটাই। জীবনের ভিত গড়ার বয়সও এটাই। আর যে স্বপ্ন দেখতে জানে সেই এগিয়ে যাবে সফলতার পথে। অতএব স্বপ্ন দেখানোর জন্য তাকে বই এর জগতে আমন্ত্রণ জানান। পৃথিবী বিখ্যাত সব ক্লাসিক এর অনুবাদ এখন সহজেই পাওয়া যায়। সেবা পেপার ব্যাক সস্তায় আর পাঞ্জেরী প্রকাশন শোভন সংস্করণে আপনার সন্তানের জন্য এসব ক্লাসিক তুলে দিচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানীকৃত মূলবইও আপনি পেতে পারেন বাংলাবাজার ও ঢাকা নিউমার্কেট সহ অভিজাত বই এর দোকানে। তাছাড়া প্রতি বছর বাংলা একাডেমীর বই মেলায় অজস্র শিশুতোষ বই বের হচ্ছে। তবে হ্যাঁ আপনাকে বই পছন্দের ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে। ভালো বই এর পাশাপাশি অজস্র আবর্জনার জন্ম হচ্ছে এদেশে। প্রচুর অলেখক, কুলেখক, রঙ চঙে সাজিয়ে প্রচুর ভূয়া বই আপনার সামনে তুলে ধরছে। এদের কোন দায়বদ্ধতা নেই। ওদের একটাই চাওয়া সেটা হলো বাণিজ্য। শুধু কাঁচা অর্থ। আপনার পকেট কেটে সম্পদ জমানোই ওদের একমাত্র লক্ষ্য। এ জন্য আপনাকেই বেছে নিতে হবে প্রকৃতি লেখকের বইটি। যা আপনার সন্তানের স্বপ্নকে উসকে দেবে।একজন ভালো মানুষ হিসাবে মাথা তুলে দাড়ানোর পথ খুঁজে দেবে। শুধু গল্প উপন্যাস বা ছড়ার বই নয়। তাকে দিন বিখ্যাত মানুষের জীবনী, বিজ্ঞান, গণিত ও প্রকৃতি বিষয়ক বই। তার জ্ঞানের রাজ্যে আলোড়ন তুলে দিন। একটা চমৎকার জগতের বাসিন্দা হয়ে যাক আপনার সন্তান। ভালো বই তার সৃষ্টিশীলতাকে উসকে দেবে। তার বিবেককে জাগ্রত করবে। একজন ভালো মানুষ হবার পথে পা ফেলবে আপনার প্রিয় সন্তান।

    শুধু একজন ভালো ছাত্র নয়, একজন ভালো মানুষও আমাদের প্রয়োজন।

আমাদের দেশের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই আজ অবক্ষয়। ভয়াবহ পচন ধরেছে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে। এর কারণতো একটাই। ভালো মানুষের অভাব। প্রায় সব ভালো জায়গায় খারাপ মানুষ বসে আছে। মাথায় পচন ধরেছে অতএব শরীরে পচনতো সময়ের ব্যাপার। আমরা কোথায় রেখে যাচ্ছি আমাদের প্রিয় সন্তানটিকে। এই বিভৎস অবস্থা থেকে বাঁচানোর জন্য শুধু একজন ভালো ছাত্র হলেতো হবে না। প্রয়োজন একজন ভালো মানুষ। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ভালো ইনভেষ্ট ভালো ছাত্র বের করে দিতে পারে। কিন্তু ভালো মানুষ বের করতে পারে না। ভালো মানুষ তৈরির যে সব উপাদান প্রয়োজন তার মূল উপাদান হলো বই। ভালো বই একজন মানুষের ভালো গুনগুলোকে প্রস্ফুটিত করে, তার বিবেককে জাগ্রত করে। ভালো মন্দের পার্থক্য বুঝার ক্ষমতা তৈরি করে দেয়। আমাদের এই পচে যাওয়া সামাজের জন্য এ রকম ভালো মানুষ প্রয়োজন। নষ্ট জেনারেশনটা যখন এক সময় বিদায় নেবে তখন এই ভালো মানুষ গুলোকে সব কাজের ভার হাতে তুলে নিতে হবে। তাই ভালো ছাত্রের পাশাপাশি আজ খুব দ্রুত লয়ে ভালো মানুষ তৈরির পথে এগিয়ে যেতে হবে আমাদের। আর ভালো মানুষ তৈরির পাঠ দেবে একটি ভালো বই। সেই বইগুলো খুঁজে নিয়ে তুলে দিতে হবে নূতন প্রজন্মের হাতে। আমরা সবাই এই কাজে নিয়োজিত হলে আমাদের স্বপ্নের মানুষ তৈরি হতে কি খুব বেশী সময় লাগবে?

    বই কিনি, বই পড়ি, অন্যকে পড়াই।

আমাদের প্রতেকেই কিছু না কিছু নেশা আছে। কেউ চা, কেউ পান, কেউ সিগারেট। এগুলোতো সাধারণ। এর বাইরেও আছে কারো সিনেমা দেখা, ক্যাসেট-সিডি কেনা। অনেকের এর বাইরেও নানা রকম নেমায় আসক্ত। আমরা আমাদের নেশার পিছনে যে খরচটা করি তার একটা অংশ যদি বইয়ের পিছনে খরচ করি তবেই তো আমাদের জ্ঞানচর্চ্চার পথটা শুরু হয়ে যায়। আর একটা বই একজনতো পড়ে শেষ নয়। আমি পড়ি, আপনি পড়–ন, প্রতিবেশী বা বন্ধুকে পড়তে দেই। হোকনা হাত বদল। এক বই থেকে আনন্দ নিক, জ্ঞান নিক দশ জন। সবচেয়ে ভালো হয় একটি পারিবারিক পাঠাগার গড়ে তুললে। এতে পরিবারের সকলের পাঠ চাহিদা মিটানো যেতে পারে। বর্তমান প্রজন্মের সাথে সাথে পরবর্তী প্রজন্মও বই পড়াকে একটি অত্যাবশ্যক বিষয় বলে মেনে নেবে। আর একবার যদি কেউ বই পড়ার প্রেমে মজে যায় তবে তাকে কোন নেশাই আর টেনে নিতে পারবে না। পাঠ্যাভ্যাস যাদের আছে খোঁজ নিয়ে দেখুন তার জীবনের গতি পথটাই ঝলমলে উজ্জল। জ্ঞানীদের চোখ থাকে উজ্ঝল। ওরা কারো ক্ষতি করেতে জানে না। আজকাল যারা বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত এদের ইতিহাস ঘেঁটে দেখুন বই এর সাথে এদের কোন সম্পর্কি ছিলো না, এখনো নাই।

অতএব প্রিয় অভিভাবক আপনার সন্তানটিকে, আপনার প্রিয় মানুষটিকে বই রাজ্যে হারিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিন।

    পাঠাগার আন্দোলনে আপনার ভূমিকা হোক মূখ্য।

একজন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে, একজন জ্ঞানী মানুষ হিসেবে এ সমাজের প্রতি আমাদেরও কিছু ভূমিকা থেকেই যায়। আমি আপনার সেই ভূমিকাটিকে গুরুত্ব দিতে চাই। আমরা আমাদের সব আশা আকাংখা যাদেরকে ঘিরে লালন করি তার হচ্ছে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম। সেই প্রজন্মকে যদি আলোর মুখ দেখাতে পারি তবে আমাদের দুশ্চিন্তা বোধ হয় অনেকটাই কেটে যায়। আসুন আমরা তবে সেই আলোচনায় যাই। আমি বই পড়ি, আপনিও বই পড়েন। আমি আপনি আমাদের বই পড়ার নেশাটা নূতন প্রজন্মের কাছে স্থানান্তর করার পাশাপাশি পাঠাগার তৈরীর একটা স্বপ্নও তাদের মনে জাগিয়ে তুলতে পারি। একজন মানুষ একক ভাবে একটা ছোট্ট পারিবারিক লাইব্রেরী হয়তো গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু অনেকে মিলে একটা এলাকায় একটা পাঠাগার তৈরির আন্দোলন গড়ে তুলতে পারি। আমাদের পূর্ব পুরুষরা সে পথ দেখিয়ে গেছেন। প্রাচীনতম পাঠাগার গুলোর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমরা সে তথ্যই পেতে পারি। অতএব আমি আপনি আমাদের ক্ষুদ্র পাঠাগারগুলোকে একত্র করে পথ চলা শুরু করি। এক সময় আমাদের স্বপ্ন সফলতার মুখ দেখবেই।

অতএব আর দেরী কেন? আমাদের স্বপ্ন সৌধের প্রথম ইটটি স্থাপন করি। তারপর তুলে দেই পরবর্তী প্রজন্মের হাতে। আমি বিশ্বাস করি আমাদের স্বপ্ন ওদের হাত ধরে একদিন মাথা তুলে দাড়াবেই।
পরিচিতি 


চন্দনকৃষ্ণ পাল চন্দনকৃষ্ণ পাল Reviewed by Pd on জুলাই ১১, ২০১৫ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

সুচিন্তিত মতামত দিন

banner image
Blogger দ্বারা পরিচালিত.