সোনালী বি মুখার্জী



ফুল যবে সাঙ্গ করে খেলা ফল ধরে সেই। কত সহজে যৌনতার ব্যাকরণকে এক লাইনে আঁটিয়ে ফেলেছেন বৈজ্ঞানিক রবীন্দ্রনাথ। মানুষ আর তার শরীর নিয়ে পড়াশুনো করতে গিয়ে এইটাই বারে বারে বুঝলাম, আমরাও পশু। আর পাঁচটা জীবের সঙ্গে  জৈব চাহিদা গুলির কোন তফাৎ নেই। আহার,নিদ্রা, মৈথুন। বাকি সবই এর সাথে যুক্ত। এর জন্যেই ঘর বাড়ি, নানান বাহার। কিন্তু মৈথুন কার্যটি ঠিক নিজের জন্যেই নয়। প্রকৃতি আমায়  ভোলাচ্ছে তার কাজ হাসিল করতে। সে আমার স্পিসিস-কে টিকিয়ে রাখতে চায়। নতুন প্রানী দরকার। তারই জন্যে ফুলে রং। রাতের সাদা ফুলে গন্ধ। ছেলে পাখির পালকে বাহার।পুরুষ সিংহের কেশর। পুং কোকিল কণ্ঠ মাধুর্য ভরা। মেয়েদের বুক ভরা বাৎসল্য, শিশুর খাদ্য তার বীজপত্রে,ডিমে,মাতৃ দুগ্ধে।

কীট পতঙ্গ পশু পাখি.... সব মা, নিজের জীবন বিপন্ন করে ঝাঁপ দেয় সন্তানকে বাঁচাতে। সেই প্রবল ইন্সটিনক্টকেই সারা বিশ্ব মাতৃ শক্তি, মাদার গডেস বলে ইতিহাস জুড়ে প্রনাম জানিয়ে চলেছে। সৃস্টির পথ যে ছলনাময়ী আকীর্ন করে রেখেছেন, তিনি টিনএজ আসতেই ভোগা দিচ্ছেন এইটাই প্রেম। যত সংসারের পথে এগিয়ে চলি মহাকাল বুঝিয়ে দ্যান,ওরে বোকা বনেছিস। 

এ চাহিদা শুধু শরীরের। এতে মন কই? মন না থাকলে সাংসারিক ধাক্কা, চামড়ায় সময়ের কুঞ্চন, চুলে সাদা রঙ পেরিয়ে ভালবাসা বসবে কোথায়?

এগিয়ে আসেন রবি। পুরাতন প্রেম ঢাকা পড়ে যায় নব প্রেম জালে, বলেই, মনে করিয়ে দ্যান , '' ও হে ভুল বুঝো না। বাসনা সব বাঁধন যেন কুঁড়ির গায়ে। '' সকালে উঠেই মনে হল তাইই তো , এ যে শস্যকণার মত। যেই বীজপত্রে দানা পাকলো, ওমনি ঝরে গেলো খোসা। রয়ে গেলো দানাটুকু। তারই এক মুঠি তুলে রেখে এলাম মহেঞ্জোদারোর কুলুঙ্গিতে মাটির কৌটো ভরে। 

কাল সবুজ কুচি দেখা যেতেই লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে একশা। বোঝাই কি করে , ওরে, ওই তো আমার প্রাণ। ও যে মৃত্যুঞ্জয়। সে আমার প্রেম। তারে আমি রাখিয়া এলেম অপরিবর্তন অর্ঘ্য তোমার উদ্দেশে পরিবর্তনের স্রোতে আমি যাই ভেসে কালের যাত্রায়........

শরীরের খিদে , সন্তান পালন, সব কালের যাত্রাপথে চলবে। আর প্রেম পরম নিধি কালোত্তীর্ণ হয়ে জ্বলবে রাজেশ্বরের মুকুটের মাঝখানটিতে। শেষের কবিতা আমায় চুপিচুপি সেই কথাটি বলে গেলো।

পরিচিতি 


সোনালী বি মুখার্জী সোনালী বি মুখার্জী Reviewed by Pd on জুলাই ১১, ২০১৫ Rating: 5

1 টি মন্তব্য:

সুচিন্তিত মতামত দিন

banner image
Blogger দ্বারা পরিচালিত.