আজকে আমি আমার বেষ্টফ্রেন্ড কথা বলবো – রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার মানুষটার সাথে যখন মা আমার প্রথম পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল - সেই থেকে মানুষটাকে চিনি। বেশ গুরুগম্ভীর, রাগী রাগী, শেষ চেষ্টা না করা অব্দি হারে না। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি মানুষটাকে- এখনও একই রকম । যখন ‘বাবাই’ বলে ডাকে না! বাবাই তো বাবাই সোদর বনের নধর বাঘ পর্যন্ত ওঁই আওয়াজে লেজ মুরে লুকিয়ে পরবে।
কোন কিছুতেই কোন উৎসাহ নেই, না বিশ্বকাপে, না কোন সিনেমা দেখতে যেতে। কিন্তু ১৯৯৪ এর বিশ্বকাপের সময় যখন আমি আর্জেন্টিনার জন্য পাগল কে যেন বিশ্বকাপের দিন সকালে আমি ঘুম থেকে ওঠার আগে আমার মাথার ওপরে আর্জেন্টিনার নতুন জার্সি টা রেখে গেছিল পিছনে জয় আর নম্বর ১০। যখন জুরাসিক পার্ক রিলিস করলো এই মানুষ টাই গায়ে ১০১ জ্বর নিয়ে আমাকে দেখাতে নিয়ে গেছিলো।
আমার সাথে কেউ রাত না জাগলে আমি রাত জেগে পরতে পারতাম না সেই কারণে আমার জন্য আমার সাথে নিজেও রাত জাগত আর রবীন্দ্র রচনাবলী পড়তো। সেই যখন জন্ডিসের জন্য উচ্চ-মাধ্যমিক প্রথমবার দিতে পারলাম না- বাড়ির সবাই থেকে পাড়ার লোকজন সবাই একসাথে বলাবলি শুরু করলো এ ছেলের কেরিয়ার শেষ। এই মানুষটাই প্রথম বলেছিলো ‘ওরে তুই পড়ে যা তো পাস করলে করবি ফেল করলেও...... আমি দেখি তুই কতবার ফেল করিস আরে বাবা ফেল করতেও খাটনি লাগে, মুক্ষুগুলোর কথা ছাড়ত সব ঠিক হয়ে যাবে ’ এবং সেই ছেলে কে ওঁই খান থেকে টেনে তুলে এম.সি.এ তে সারা পশ্চিমবঙ্গে ৯০ রাঙ্ক পাওয়ানো সব টাই আমার বেষ্টফ্রেন্ড এর কৃতিত্ব ।
প্রথম বার যখন টিউসুনি করে হাত ঘড়ীর ছেরা বেল্টটা পাল্টে দিয়েছিলাম কি রাগারাগি করেছিলো এ ছেলের হাতে টাকা থাকবে না, টাকা কামড়ায় এটাকে, খালি বাজে খরচ করে । কিন্তু ওঁই ঘড়িটার বেল্টটা ছিরে গেলেও এখনও ওঁই ঘড়িটাই টেনে টুনে পড়ে।
মানুষটা সারা জীবন আকাশের মেঘের মতো সমস্ত সূর্যের তেজ নিজে সহ্য করে আমাকে ছায়া দিয়ে আসছে, হম মানুষটি আমার চিরকালের বেষ্টফ্রেন্ড আমার বাবা আমার R.B.T.
খুব খুব ভালো থেকো বাবা.........................খুব ভালো —
![]() |
| পরিচিতি |
বাবাই
Reviewed by Pd
on
জুলাই ১১, ২০১৫
Rating:
Reviewed by Pd
on
জুলাই ১১, ২০১৫
Rating:


কোন মন্তব্য নেই:
সুচিন্তিত মতামত দিন